কচুয়ার কাদলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জান্নাতুল আলম
নিজস্ব সংবাদদাতা :
কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কাদলা গ্রামের বাসিন্দা জান্নাতুল আলম (আলমগীর)। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এলাকার মানুষের পাশে থাকার কারণে স্থানীয়দের মাঝে তার পরিচিতি রয়েছে।
জান্নাতুল আলম বর্তমানে রগুনাথপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কোয়াচাঁদপুর মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি কাদলা খাদিজাতুল কোবরা মহিলা মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থেকে একটি শিক্ষিত, মানবিক ও আলোকিত সমাজ গঠনের প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।
এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের কারণে এলাকায় তার একটি সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জান্নাতুল আলম বলেন, “সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য একটি দক্ষ, সৎ ও নীতিবান নেতৃত্বের প্রয়োজন। একজন সৎ ও নীতিবান চেয়ারম্যান দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে ইউনিয়নের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে জনগণকে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন সেবা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সেবার পরিধি আরও বাড়িয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি ও নাগরিক সেবা পৌঁছে দিতে হবে। বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সঠিকভাবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদকে মানুষের সেবা পাওয়ার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে হবে।
জান্নাতুল আলমের ভাষ্য, “ইউনিয়ন পরিষদকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, বৈষম্যহীন ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা আমার অন্যতম লক্ষ্য। সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যেন সমানভাবে সেবা ও ন্যায়বিচার পান, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে চাই। কাদলা ইউনিয়নকে একটি আধুনিক ও মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করতে চাই।”
নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়েও তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান। তার মতে, নারীর প্রকৃত ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে হলে তাদের শিক্ষিত ও দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। তাই ছেলেদের পাশাপাশি নারী শিক্ষার প্রসার, নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামাজিকভাবে তাদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বলেন, “জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার লক্ষ্যেই আমি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হতে চাই। ব্যক্তিগত কোনো প্রাপ্তি বা স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, বরং মানুষের সেবা ও এলাকার উন্নয়নে নিজেকে নিয়োজিত করাই আমার উদ্দেশ্য।”
স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জান্নাতুল আলম দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে মানুষের জন্য কাজ করে আসছেন। ফলে তার মতো একজন সামাজিকভাবে সম্পৃক্ত ও শিক্ষিত ব্যক্তিকে ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্বে দেখতে চান বলে অনেকেই মত প্রকাশ করেছেন।
তাদের প্রত্যাশা, জান্নাতুল আলম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে কাদলা ইউনিয়নে শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও জনসেবার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে দল-মত ও শ্রেণি-পেশার ঊর্ধ্বে উঠে সকল মানুষের জন্য সমান সেবা নিশ্চিত করে একটি বৈষম্যহীন, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশাও রয়েছে এলাকাবাসীর।
Leave a Reply