কচুয়ার কাদলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় আলহাজ্ব সফিকুল ইসলাম স্বপন
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাদলা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম পাঠান স্বপন। তাকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম স্বপন আয়মা গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত আলহাজ্ব আমির হোসেন পাঠানের একমাত্র ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি এলাকায় নিজের একটি অবস্থান তৈরি করেছেন।
কাদলা ইউনিয়নের চৌমুহনী সংলগ্ন এলাকায় তার প্রতিষ্ঠিত এএইচপি ব্রিকফিল্ড, মাছ, মুরগি ও গরুর খামারে বেশ কিছু বেকার যুবকের কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব উদ্যোগের কারণে স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। পাশাপাশি গরিব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্যও তিনি এলাকায় প্রশংসিত বলে স্থানীয়রা জানান।
পাশাপাশি তিনি চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক চাঁদপুর দর্পণ পত্রিকার সহ-সম্পাদক এবং সাপ্তাহিক কচুয়াবার্তা পত্রিকার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের মতে, আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম স্বপন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হলে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার সুযোগ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের জন্য তার এএইচপি ব্রিকফিল্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নেও তিনি বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। বর্তমানে তিনি চৌমুহনী আলিম মাদ্রাসা, দোঘর ইসলামিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা এবং আয়মা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া চৌমুহনী বাজার পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও বাজারের উন্নয়নে কাজ করছেন।
চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান সম্পর্কে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম স্বপন বলেন, “আমি ইউরোপের বিলাসী ও আয়েশী জীবনযাপন পরিত্যাগ করে এলাকার মানুষের সেবা করার জন্যই আমার এলাকায় এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছি। আমি আমার সাধ্য অনুযায়ী মানুষের কল্যাণে কাজ করছি।কোন কিছু পাবার আশায় নয়।আমি আমার এলাকার গানের কাছে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ।
জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে মানুষের সেবা করার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে। হয়তো এ কারণেই এলাকার জনগণ আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান।”
তিনি আরও বলেন, “এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ন্যায়বিচার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুশাসন প্রতিষ্ঠা করাই আমার অঙ্গীকার। আমার কোনো পিছুটান নেই, তাই স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে মানুষকে সেবা দিতে প্রস্তুত। আমি সবসময় এলাকায় বসবাস করি। আমার কাছে গরিব-ধনী, দরিদ্র-বিত্তবান সবাই সমান।”
নিজের পারিবারিক ঐতিহ্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার প্রয়াত পিতা আমির হোসেন পাঠান মানুষের জন্য কাজ করেছেন। আমিও সারা জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কাদলা ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা বাড়ছে। এরই মধ্যে আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম পাঠান স্বপনের নামও স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে অংশ নেন কি না এবং নিলে তার অবস্থান কেমন হয়—সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা।
Leave a Reply