কচুয়ায় আদম বেপারী নাছির উল্লাহ’র খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব এক পরিবার
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার নন্দনপুর গ্রামের রায়হান ফরহাদ নামে এক যুবক সৌদি আরবে ভালো বেতনে চাকরির আশায় গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরেছেন। বিদেশ যেতে জমিজমা বিক্রি ও সুদে টাকা নিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে এখন পরিবারটি ঋণের বোঝায় জর্জরিত। টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী রায়হান ফরহাদ নন্দনপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন প্রধানের ছেলে। রায়হানের মা কুছুমা বেগম জানান প্রায় এক বছর আগে তার আত্মীয় বিতারা ইউনিয়নের বাইছাড়া গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে নাসির উল্লাহর মাধ্যমে সৌদি আরবে যান রায়হান। মাসে এক লাখ টাকা বেতনে চাকরির কথা বলে প্রথমে ছয় লাখ টাকার বিনিময়ে তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
সৌদি আরবে যাওয়ার পর রায়হানকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নিয়মিত কাজ দেওয়া হয়নি। তাহার আকামার ও কাজ দিবার কথা বলে আরো ৫ লক্ষ টাকা জন্য চাপ প্রয়োগ করে। টাকা না দিলে আমার ছেলেকে কাজ না দিয়া দেশে ফেরত পাঠাবে। বাধ্য হয়েই তাকে পরবর্তীতে আরো পাঁচ লাখ টাকা দেই।
একটি কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে তাকে কাজে দেওয়া হলেও নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় তার থাকা-খাওয়ার সমস্যা দেখা দেয়।
রায়হানের পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে যে কোম্পানিতে নাসির উল্লাহ কাজ করতেন, সেই কোম্পানির মালিকের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, নাসির উল্লাহ চুক্তি অনুযায়ী কোম্পানিকে টাকা পরিশোধ করেননি। পরিবারের অভিযোগ, বিদেশে পাঠানোর নামে নেওয়া টাকার একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
এদিকে নিয়মিত বেতন না পাওয়া ও থাকা খাওয়ায় সৌদি আরবে রায়হানের দুর্ভোগ আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সৌদি মালিক তাকে দুই মাসের এক্সিট দিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পরে উপায়ান্তর না দেখে বাড়ি থেকে আরও প্রায় ৯০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ খরচে বিমানভাড়া পরিশোধ করে বাংলাদেশে ফিরে আসেন রায়হান।
রায়হানের মা কুলসুমা জানান, নাসির উল্লাহর স্ত্রী শামীমা বেগম মিলন তার চাচাতো বোন। আত্মীয়তার সম্পর্ক ও বিশ্বাসের কারণে জমিজমা বিক্রি করে এবং সুদে টাকা নিয়ে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ ও বেতন না পেয়ে ছেলে দেশে ফিরে আসায় এখন তাদের বেঁচে থাকার কোনো অবলম্বন নেই।
তিনি আরও জানান, টাকা উদ্ধারের জন্য প্রায় দুই মাস আগে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য থানায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো নিষ্পত্তি হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে নাসির উল্লাহর স্ত্রী শামীমা বেগম মিলন বলেন, “রায়হানের জন্য টাকা নিয়েছি, এটি সত্য। তবে সে বিদেশ থেকে কেন চলে এসেছে, তা আমার জানা নেই।”এটি আমার স্বামী ভালো জানে।
ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রুহুল আমিন জানান, সহায়-সম্বল বিক্রি করে রায়হান বিদেশ যাওয়ার পর দেশে ফিরে কচুয়া থানায় অভিযোগ করেছেন। এরপর তিনি বিষয়টি জানতে পারেন। এ নিয়ে থানায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
রায়হান ও তার পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে চাকরির জন্য যেতে তাদের প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সুদে টাকা নেওয়া এবং জমিজমা বিক্রি করে ওই অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বর্তমানে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারটি তাদের দেওয়া টাকা ফেরত পেতে এবং প্রতারণার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত প্রতিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছে।
Leave a Reply