ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
কচুয়ার আশ্রাফপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় এম. আবু ফয়েজ
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কচুয়ার আশ্রাফপুরে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী এম. আবু ফয়েজকে ঘিরে স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সামাজিক সম্পৃক্ততা ও দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে পরিচিত মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি।
জানা যায়, এম. আবু ফয়েজ আশ্রাফপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁঙ্গিনী গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মরহুম আব্দুল মতিনের সাত সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ।
শিক্ষাজীবনে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া, ঢাকা (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া অধিভুক্ত) থেকে ইসলামিক স্টাডিজ ও হাদিস বিভাগে ফাযিল (বিএ) এবং কামিল (এমএ) ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ল’ কলেজ, ঢাকা থেকে এলএলবি এবং ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনৈতিক জীবনে এম. আবু ফয়েজ ১৯৯৬ সালে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হাত ধরে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের ১ নম্বর সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন।
সমর্থকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ ৯টি স্কাইপ মিটিংয়ের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই শেষে তাঁকে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কচুয়া উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির টিম লিডার হিসেবে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন বলেও জানা গেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা জজকোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছেন।
তাঁর সমর্থকদের ভাষ্য, অতীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন এবং একাধিকবার হামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। পাশাপাশি সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন তিনি।
সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের মধ্যে তিনি চাঁঙ্গিনী দক্ষিণপাড়ার বাইতুর নূর জামে মসজিদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাইতুর রাসূল (সা.) ইসলামিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসার সাধারণ সম্পাদক, ড্রিমফিল ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা এবং আশ্রাফপুর আহসানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এম. আবু ফয়েজ উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রাফপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন।
এদিকে, এম. আবু ফয়েজের আপন সহোদর বড় ভাই অ্যাডভোকেট কাজী মাওলানা মোহাম্মদ আবুল হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে এম. আবু ফয়েজ বলেন, “জনগণ যদি আমাকে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করেন, তাহলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব। সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করছি।”
আসন্ন আশ্রাফপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও এম. আবু ফয়েজের সমর্থকদের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। নির্বাচন ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।
Leave a Reply