কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পাঠান
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান পাঠানের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি আকানিয়া পাঠান বাড়ির কৃতি সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতির পাশাপাশি জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন বলে জানান তিনি।
কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নে ১৪টি গ্রাম রয়েছে। ইউনিয়নটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ হাজার ৫৮৬ জন।
মিজানুর রহমান পাঠান জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৮৩ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। সে সময় কচুয়ার বিভিন্ন জনপদে বিএনপির রাজনীতি বিস্তারের লক্ষ্যে ছাত্রদলকে প্রতিষ্ঠিত করার কাজে তিনি ভূমিকা রাখেন। যার ফলে কচুয়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে বিএনপির কর্মী সমর্থক রয়েছে। পরবর্তীতে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এলাকায় থেকে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত থাকার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে তাঁকে জেল খাটতে হয়েছে এবং হামলা-মামলার শিকার হয়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল । এরপরও তিনি বিএনপি ও নিজ এলাকা ছাড়েননি।
মিজানুর রহমান পাঠান আরও জানান, তিনি ২০০৩ ও ২০১১ সালে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে দুইবার কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান থাকাকালে দল-মত নির্বিশেষে সাধ্য অনুযায়ী ইউনিয়নের মানুষের সেবা করার চেষ্টা করেছেন।
তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ইউনিয়ন পরিষদ একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। চেয়ারম্যান থাকাকালীন দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সাধ্য অনুযায়ী সেবা দিয়েছি। এ কারণেই আমি জনগণের কাছে প্রিয়।
আমি নাগরিকত্বের সনদ,ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা জনগণকে বিনামূল্যে দিয়েছি। আল্লাহর রহমত থাকলে এবং মানুষ সুযোগ দিলে বিগত দিনের মতো এবারও জনগণ আমাকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
গ্রাম আদালত কার্যকর করার অঙ্গীকার:
নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে আরও কার্যকর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন মিজানুর রহমান পাঠান। তাঁর মতে, গ্রাম আদালত একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে হয়রানি ছাড়াই জনগণকে ন্যায়বিচার দেওয়া এবং এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
মাদক নির্মূলে সামাজিক উদ্যোগ:
বর্তমান সময়ে মাদককে সমাজের জন্য একটি ভয়াবহ ব্যাধি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসনের সহযোগিতায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মাদক নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। মাদকের কারণে যুবসমাজ ক্রমেই বিপথগামী হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
শিক্ষার প্রসারে ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা কমিটি:
শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং প্রতিটি গ্রামে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মসজিদের ইমাম ও এলাকার সুধীজনদের সমন্বয়ে এসব কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির তদারকি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খাল পুনঃখননের পরিকল্পনা:
কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা ও কৃষির উন্নয়নে বিভিন্ন খাল পুনঃখননের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন মিজানুর রহমান পাঠান। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে কড়ইশ-কৈলাইন-তুলপাই খাল, বাছাইয়া-লস্করী পর্যন্ত সুন্দরী খালের অংশ এবং কচুয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিস হয়ে সাচার খাল পুনঃখনন।
তিনি মনে করেন, এসব খাল পুনঃখনন করা হলে পানির প্রবাহ বাড়বে। খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করা গেলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজননও বাড়বে।
সড়ক ও সেতু নির্মাণে গুরুত্ব:
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকাকরণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। আকানিয়া-কোমরকাশা-উজানী সড়কের রাজাপুরের পর থেকে আকানিয়া গাজীবাড়ি পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ এবং ওই সড়কে একটি সেতু নির্মাণের অঙ্গীকার করেন তিনি।
এছাড়া ঘাগড়া মুন্সিবাড়ি ব্রিজ থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে মনপুরা সোলাইমান মাওলানা বাড়ি পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
কোমরকাশায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবনের দাবি:
ইউনিয়নবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির কথা উল্লেখ করে মিজানুর রহমান পাঠান বলেন, ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান কোমরকাশায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়া আরও সহজ হবে।
তাঁর মতে, কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি স্বেচ্ছায় নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি দান করলে কোমরকাশায় ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা সম্ভব।
সর্বশেষে মিজানুর রহমান পাঠান বলেন, জনগণ তাঁকে সুযোগ দিলে অতীত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কচুয়া সদর দক্ষিণ ইউনিয়নের উন্নয়ন, সুশাসন, শিক্ষা, যোগাযোগ, কৃষি ও জনসেবাকে আরও এগিয়ে নিতে কাজ করবেন।
Leave a Reply