চান্দিনায় সৌদি প্রবাসী আলী আশ্রাফকে বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদের সংবাদ সম্মেলন
চান্দিনায় সৌদি প্রবাসী আলী আশ্রাফকে বিরুদ্ধে অপপ্রচার।
ভুয়া ফেসবুক আইডিতে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রমূলক
মামলা দায়ের ॥ পরিবারের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার দাবি
নিজস্ব সংবাদদাতা :
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় সৌদি আরব প্রবাসী মো. আলী আশ্রাফকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার এবং তাকে হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে বসবাসকারী এই প্রবাসী আলী আশরাফ । মঙ্গলবার দুপুরে চান্দিনা উপজেলার ১০নং গল্লাই ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের পাঁচধারা সরকার বাড়িতে স্থানীয় গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্রবাসী মো. আলী আশ্রাফ।
তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে তার বিরুদ্ধে চলমান বিভিন্ন কর্মকান্ডের বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।চান্দিনা উপজেলার পাঁচ ধারা গ্রামের মৃত সুরুজ মিয়া ছেলে আলী আশ্রাফ জানান, প্রায় ৩১ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ব্যবসা পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশি শ্রমিকদের সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ার কাজও করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক কর্মকান্ড ও কষ্টার্জিত অর্থের মাধ্যমে তিনি সৌদি আরবে মায়েল গ্রুপ অব কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন যার চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রতিষ্ঠানটিতে তার আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন এলাকার প্রায় ২৪ জন কর্মচারী বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া দীর্ঘ প্রবাস জীবনে চান্দিনা, কচুয়া ও আশপাশের এলাকার প্রায় ৯ হাজার বেকার মানুষকে সৌদি আরবে পাঠািয়ে তাদের সংসারের চাকা সচল করেন।
আলী আশ্রাফের অভিযোগ, প্রায় ছয় বছর আগে একই বাড়ির চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেন ও আবু সাইদকে তিনি সৌদি আরবে নিজের কাছে নিয়ে যান। পরবর্তীতে তাদের ওপর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দায়িত্ব অর্পণ করেন।
তার সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ওই দুই ভাই তার প্রতিষ্ঠানের অর্থের হিসাব-নিকাশে অনিয়ম করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি তার নজরে আসার পর দেলোয়ার হোসেন ও আবু সাইদের কাছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব চাইলে তারা যথাযথ হিসাব দিতে পারেননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে তাদের দুজনকে প্রতিষ্ঠান থেকে দায়িত্বমুক্ত করেন তিনি। এরপর থেকেই ওই দুই ভাই তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন বলে দাবি করেন আলী আশ্রাফ।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, হাওয়া-মুন্সি ও মেহজাবিন মৌ নামের ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে তাকে নিয়ে বিভিন্ন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারের কারণে দেশে ও বিদেশে তার সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুন্ন হয়েছে।এছাড়া তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক সদস্য চট্টগ্রামের বাসিন্দা লাভলী আক্তারকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে তাকে হয়রানি করা হয়েছে।
আলী আশ্রাফ বলেন, গত ৪ আগস্ট ভোররাতে সৌদি পুলিশ ও সিআইডি পুলিশের সদস্যরা তাকে আটক করে নিয়ে যান। পরে তাকে ৯ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ১৪ আগস্ট তিনি কারাগার থেকে বেকসুর খালাস পান।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,“আমি দেশে ও বিদেশে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। দেলোয়ার হোসেন ও আবু সাইদ আমার এবং আমার পরিবারের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। আমি প্রশাসন ও এলাকাবাসীর মাধ্যমে আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার চাই।” তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে তিনি নিজের ও এলাকার মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে আসছেন। অথচ একটি পক্ষ তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। এসব কর্মকান্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে চান্দিনা ও কচুয়া উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহজাহান, সাবেক ইউপি সদস্য মো. দুলাল মিয়াসহ এলাকার অসংখ্য মানুষ উপস্থিত ছিলেন
Leave a Reply