গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কাচারি ঘর।
বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘কাচারি ঘর’। এককালে গ্রাম বাংলার ইতিহাস, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল ‘কাচারি ঘর’। যা ছিল গ্রামের অভিজাত ও সম্ভ্রান্ত গৃহস্থ পরিবারের আভিজাত্যের প্রতীক। যা প্রধানত বাড়ির মূল অন্দরমহলের বাইরে বা একটু সামনে আলাদা একটি ঘর হিসেবে পরিচিত ছিল।
দূর-দূরান্ত থেকে আসা অতিথি, জমিদারদের বসার এবং বিচার-সালিশ বা সভা পরিচালনার মূল কেন্দ্র ছিল কাচারি ঘর।
একসময় মক্তব, পাঠশালা কিংবা শিশুদের পড়াশোনার কাজও অনেক সময় কাচারি ঘরেই হতো। সময়ের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়া ও যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়ার কারণে গ্রাম বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী কাচারি ঘর আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
আশার কথা কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের এনায়েতপুর তালুকদার বাড়িতে দেখা গেল সেই কাচারি ঘর।
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সমাজ সংস্কারক বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের অবসরপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার ছিদ্দিকুর রহমান তালুকদারের প্রচেষ্টায় নিজ বাড়িতে এখনো রয়েছে সেই কাচারি ঘর। পূর্বের টিনের ঘরের পরিবর্তে পাকাদলান।তিনি পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য,যৌথ পরিবার ও সামাজিক বন্ধন অটুট রাখতে কাচারি ঘরটি চালু রেখেছেন।ওই বাড়ি এমনকি পুরো গ্রামেই যেন একটি পরিবার। এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা লিটন তালুকদার জানান কাচারি ঘরটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। কাচারি ঘরের পাশেই রয়েছে সৌন্দর্যমন্ডিতে মসজিদ। বাড়ি আঙ্গিনায় কাচারি ঘর মসজিদ আমাদের পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া বহু স্মৃতি এ কাচারি ঘর কেন্দ্রিক। সভ্যতার নিদর্শন এই কাচারি ঘর।
Leave a Reply