ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন
কচুয়ার পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির লিটন
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন হুমায়ুন কবির তালুকদার লিটন। তিনি এনায়েতপুর তালুকদার বাড়ির প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক তালুকদারের সন্তান।
ছাত্রজীবন থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রদলের মাধ্যমে সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হন হুমায়ুন কবির লিটন। বর্তমানে তিনি পালাখাল মডেল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। লিটন তালুকদার মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড চাঁদপুর জেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক ও কচুয়া উপজেলা শাখার আহবায়ক। তাঁর দাবি, বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের নির্দেশনায় দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি সক্রিয় ছিলেন।
চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ২০১৬ সালে পালাখাল মডেল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন কৌশলে ওই নির্বাচনে তাঁকে পরাজিত করা হয়।
তিনি বলেন, বিএনপির দুঃসময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে দলের সঙ্গে থেকে নিবেদিতভাবে কাজ করেছেন। বিএনপি করার কারণে তাঁর বাবার সহায়-সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়েছে এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছেন। ১৯৯৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী ড. আ. ন. ম. এহছানুল হক মিলনের একজন কর্মী হিসেবে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করছেন বলেও জানান তিনি।
হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, কোনো কিছু পাওয়ার আশায় নয়, দল ও আদর্শের প্রতি অনুগত থেকেই কাজ করে যাচ্ছেন। দলের সুনাম ও সুখ্যাতি ধরে রাখার পাশাপাশি এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, এলাকার সাধারণ মানুষের পাশাপাশি হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতিও তাঁর সবসময় অকুণ্ঠ সমর্থন রয়েছে। এ কারণে দল-মত নির্বিশেষে এলাকার মানুষ তাঁকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান বলে তিনি দাবি করেন।
পালাখাল মডেল ইউনিয়নের ঐতিহাসিক মনসা মুড়া ও সুন্দরী খালকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, সুন্দরী খাল সংস্কার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দর্শনীয় স্থান মনসা মুড়াকে আরও সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। দুটি স্থানকে পর্যটনকেন্দ্রের আলোকে সংস্কার করা গেলে দেশব্যাপী মনসা মুড়া ও সুন্দরী খালের পরিচিতি বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। মানবতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তাঁর লক্ষ্য।
এছাড়া যুব সমাজকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে সম্মিলিতভাবে মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বাল্যবিয়ে, নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধেও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা জানান।
ন্যায়পরায়ণতা, সাম্য ও সমতাকে নিজের লক্ষ্য উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির লিটন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার। সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে তিনি কাজ করতে চান। সালিশের নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি হতে দেওয়া হবে না এবং গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করার মাধ্যমে জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, একটি জনবান্ধব ও কল্যাণমুখী ইউনিয়ন পরিষদ গঠন তাঁর প্রধান লক্ষ্য। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি পালাখাল মডেল ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া, সমর্থন ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছেন।
Leave a Reply