কচুয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ব্যক্তি উদ্যোগে রাস্তা মেরামত।
জনদুর্ভোগ লাঘবে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মুক্তার প্রধানের উদ্যোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা :
কচুয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা একটি সড়ক ব্যক্তি উদ্যোগে মেরামতের কাজ শুরু করেছেন আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মুক্তার প্রধান। জনসাধারণের চলাচলে দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটি সংস্কার এবং পুকুরের পাশে সড়কের সুরক্ষায় বস্তা দিয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
সোমবার কড়ইয়া এলাকার রহিম কমিশনারের বাড়ি থেকে দরিয়া হায়াতপুর সড়ক পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশে এ সংস্কারকাজ করা হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট, বালু ও খোয়া দিয়ে ভাঙা অংশ সংস্কার করে আপদকালীন সময়ে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুকুরের পাশে ভেঙে যাওয়া অংশে বস্তা দিয়ে সুরক্ষা দেওয়ার কাজও করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ভেঙে পাশের পুকুরে তলিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও যানবাহনকে। বিশেষ করে বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সরু ও ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় প্রায়ই যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে বলেও জানান তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কড়ইয়া থেকে দরিয়া হায়াতপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এ সড়ক দিয়ে কচুয়া বাজার, কড়ইয়া, দরিয়া হায়াতপুর, সাদিপুরা-চাঁদপুর, পূর্ব কালোচো ও ডুমুরিয়া এলাকায় যাতায়াত করেন।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, এ সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করে কড়ইয়া উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আল-আমিন ক্যাডেট মাদ্রাসা, ফাতেমাতুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসা এবং কড়ইয়া উত্তরপাড়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ফলে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কার না হওয়ায় জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মুক্তার প্রধান নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটির জরুরি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এলাকার ছোটখাটো সমস্যাগুলো সমাধানে জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা যদি স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসেন, তাহলে সাধারণ মানুষ অনেক উপকৃত হবে। মুক্তার প্রধানের উদ্যোগকে তারা একটি ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মুক্তার প্রধান বলেন, “সরকারি অর্থায়নে সড়কটির কাজ কবে হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ তো অপেক্ষা করে না। তাই জনসাধারণের চলাচলের কথা চিন্তা করে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটির জরুরি সংস্কারের কাজ করছি।”
সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রহিম বলেন এ সড়কটি দীর্ঘদিন যাবত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাধারণ জনগণ ও স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। মুক্তার প্রধান নিজস্ব অর্থায়নে সড়কটির মেরামত করছে এটি মহতী উদ্যোগ। সেজন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, “আল্লাহ আমাকে সুযোগ দিলে আমি সবসময় আমার এলাকার জনগণের পাশে থাকব। আমার ওয়ার্ডের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমার ব্রত। আমি চাই, এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে সাধ্য অনুযায়ী সবসময় পাশে থাকতে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে আমি সকলের দোয়া, সহযোগিতা ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”
এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেন, ব্যক্তি উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা নিলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগের অবসান হবে।
Leave a Reply