কচুয়ার পাথৈর ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ অবস্থা
ছাদ ফেটে খুলে পড়ছে আস্তর, রেকর্ড সংরক্ষণে নেই কোনো রেকর্ড রুম
নিজস্ব প্রতিনিধি ⥮
কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ছাদের আস্তর খুলে পড়ছে। পুরোনো ও ছোট দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবনটিতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় প্রতিদিন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জরাজীর্ণ ভবনটি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাথৈর চৌধুরী বাড়িতে ভূমি অফিসের নিজস্ব জায়গায় একসময় একটি পরিত্যক্ত ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়লে পরবর্তীতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা যে দুই কক্ষবিশিষ্ট ভবনটি কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করতেন, সেটি প্রায় ১০ বছর ধরে পাথৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ভবনটির অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক। ভবনের ছাদে একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের আস্তর ও বিভিন্ন জায়গা থেকে খুলে পড়ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এদিকে ভবনটি ছোট হওয়ায় একসঙ্গে বেশি মানুষ অবস্থান করতে পারেন না। ফলে ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসা জনগণকে অনেক সময় অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। আবার কখনো জায়গার সংকটের কারণে অফিসের ভেতরেও দাঁড়িয়ে থেকে সেবা নিতে দেখা যায়। এতে বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবা প্রত্যাশীদের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
পাথৈর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য রেনু মিয়া বলেন, “ভূমি অফিসের সেবার মান সন্তোষজনক। তবে ভবনটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। যেকোনো সময় ছাদ ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জনগণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।”
সেবা প্রত্যাশী আবুল হোসেন বলেন, “প্রতিদিন বহু মানুষ ভূমি অফিসে বিভিন্ন কাজে আসেন। কিন্তু এখানে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। ফলে আমাদের অনেক সময় ভেতরে কিংবা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। জনগণের সুবিধার জন্য একটি নতুন ও আধুনিক ভবন নির্মাণ করা এখন জরুরি।” তাছাড়া একজন ভমি কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার আমরা নিয়মি সেবা থেকে বঞ্চিত।
আতিশ্বর গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম বলেন, “ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। খোলামেলা জায়গায় ভবনটি অবস্থিত হওয়ায় ছাদ বা আস্তর ধসে পড়লে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই জরুর ভিত্তিতে নতুন ভবন নির্মাণ করা দরকার এবং ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তা আবশ্যক ।
শুধু ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র সংরক্ষণ নিয়েও রয়েছে উদ্বেগ। পাথৈর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানান, জনগণের সম্পত্তি সংক্রান্ত পর্চা, নকশাসহ বিভিন্ন মূল্যবান কাগজপত্র সংরক্ষণের জন্য অফিসে কোনো রেকর্ড রুম নেই। ফলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংরক্ষণে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে।আমি বিতারা ইউনিয়ন ভূমি ফিসের পাশাপশি পাথৈর অফিসে কাজ করছি। তারপরও মানুষের সেবার করে চিন্তা করে দুই জায়গার জনগনকে সেবা দিয়ে আসছি।
তিনি আরও জানান, ভূমি অফিসের ভবনের জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি ইতোমধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-মহোাদয়কে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমি অফিসে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ নামজারি, খাজনা প্রদান, পর্চা, নকশা ও জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে আসেন। জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সেবা নিশ্চিত করতে হলে নিরাপদ ও আধুনিক অবকাঠামো প্রয়োজন। পুরোনো ভবনটি সংস্কার না করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ উভয়েই নিরাপদ পরিবেশে সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।এ অবস্থায় পাথৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জরাজীর্ণ ভবনটি দ্রুত পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জরুরি ভিত্তিতে একটি নতুন, আধুনিক ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন ভবন নির্মান ও একজন ইউনিয়ন ভূমি কমকর্তা নিয়োগ দানের জন্য জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Leave a Reply