কচুয়ার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী জাকির হোসেন পাটওয়ারী
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটওয়ারী। তিনি ইউনিয়নের সহদেবপুর পাটওয়ারী বাড়ির বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে এলাকার মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন তিনি।
জাকির হোসেন পাটওয়ারী কচুয়া উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে দলের দুঃসময়ে তিনি দীর্ঘদিন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি এলাকার মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য সম্পর্কে মোহাম্মদ জাকির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, “আমি এলাকায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের সেবা করে আসছি। বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছি। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে আগামী নির্বাচনে জনগণ আমাকে মূল্যায়ন করবেন বলে আমি আশাবাদী।”
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের সেবা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অন্যতম কেন্দ্র। তাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের সেবাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবেন।
খাল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের পরিকল্পনা:
জাকির হোসেন পাটওয়ারী জানান, তার প্রচেষ্টায় সহদেবপুর দক্ষিণ সীমানা থেকে ফতেপুর ও তুলপাই হয়ে একটি প্রাচীন খাল পুনঃখননের মাধ্যমে বোয়ালজুড়ি খালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার মতে, এর ফলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র বৃদ্ধি পাবে।
এছাড়া সেচ মৌসুমে কৃষকরা খালের পানি ব্যবহার করে কৃষিকাজ করতে পারবেন বলেও তিনি মনে করেন। কৃষি ও পরিবেশের উন্নয়নে ইউনিয়নের খাল, জলাশয় ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
যুব সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার উদ্যোগ
মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান জাকির হোসেন পাটওয়ারী। তার মতে, তরুণদের সুস্থ ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে পারলে তারা মাদকসহ নানা সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।
তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না; জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
একই সঙ্গে বেকার যুবকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
গ্রাম আদালত সক্রিয় করার পরিকল্পনা:
সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জাকির হোসেন পাটওয়ারী।
তার মতে, ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ যাতে ছোটখাটো বিরোধ ও স্থানীয় সমস্যার দ্রুত এবং ন্যায়সঙ্গত সমাধান পান, সেজন্য গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষের হয়রানি ও অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষার মানোন্নয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা কমিটি:
শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে তার বিশেষ পরিকল্পনা। ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত ও সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং সমাজের গণ্যমান্য ও সচেতন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হবে। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি, পড়াশোনার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণে এসব কমিটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন
পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে চান জাকির হোসেন পাটওয়ারী। নারীদের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান তিনি।
এছাড়া ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া এলাকার জনগণকে বিভিন্ন কর্মমুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
জাকির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ইউনিয়নের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছাবে। তাই উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রতিটি ওয়ার্ড ও এলাকার মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।
ন্যায়বিচার ও সুশাসনকে গুরুত্ব:
জাকির হোসেন পাটওয়ারী জানান, ন্যায়বিচার, সুশাসন ও সকলের বসবাসযোগ্য একটি ইউনিয়ন গঠন করাই তার মূল লক্ষ্য। দল-মত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না। তাই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মতামত ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে চান।
আগামী নির্বাচনে জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে জাকির হোসেন পাটওয়ারী বলেন, তিনি পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল, মানবিক, উন্নত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চান। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
Leave a Reply