কচুয়ার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল উদ্দিন প্রধান
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন কামাল উদ্দিন প্রধান। তিনি ইউনিয়নের সহদেবপুর প্রধানিয়া বাড়ির বাসিন্দা। পেশায় ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক কামাল উদ্দিন প্রধান দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
কামাল উদ্দিন প্রধান মানবাধিকার কমিশন কচুয়া উপজেলা শাখার সভাপতি এবং এপেক্স ক্লাব কচুয়া শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি দৈনিক আলোকিত চাঁদপুর পত্রিকার সহ-সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে নিজের পরিকল্পনা সম্পর্কে কামাল উদ্দিন প্রধান বলেন, একটি ইউনিয়ন পরিষদ শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি সাধারণ মানুষের সেবা, ন্যায়বিচার ও সামাজিক উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র।সকল জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি মানবিক ও বসবাসযোগ্য ইউনিয়ন গড়ে তুলতে তিনি কাজ করতে চান।
তার পরিকল্পনার মধ্যে যুব সমাজকে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি মনে করেন, মাদক ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে যুব সমাজকে দূরে রাখতে প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ ও খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইউনিয়নে প্রয়োজনীয় খেলার মাঠ নির্মাণ ও খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। তাছাড়া বেকার যুবক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সালিশের নামে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে সক্রিয় করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন কামাল উদ্দিন প্রধান। তার মতে, সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে তাদের সমস্যার সমাধান পেতে পারেন, সে জন্য গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে তার বিশেষ পরিকল্পনা। তিনি ইউনিয়নের সবার জন্য শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডভিত্তিক শিক্ষা কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন। এসব কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মসজিদের ইমাম এবং সমাজের সুধীজনদের নেতৃত্বে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব কমিটি ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।
এছাড়া মাদক, বাল্যবিয়ে ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে চান কামাল উদ্দিন প্রধান।
নারীদের কর্মমুখী করতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, গৃহস্থালির কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে নারীরা যেন সেলাই, ক্ষুদ্র কুটির শিল্পসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে সম্পৃক্ত হতে পারেন, সে জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
ইউনিয়নের পিছিয়ে পড়া এলাকার জনগণকে বিভিন্ন কর্মমুখী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে তাদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। তার মতে, ইউনিয়নের উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে, যখন উন্নয়নের সুফল প্রত্যন্ত ও পিছিয়ে পড়া এলাকার মানুষের কাছেও পৌঁছাবে।
কামাল উদ্দিন প্রধান বলেন, ন্যায়বিচার, সাম্য, সুশাসন ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সকলের বসবাসযোগ্য একটি ইউনিয়ন গঠন করাই তার মূল লক্ষ্য। জনগণের সহযোগিতা ও সমর্থন পেলে পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, মানবিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
Leave a Reply