কচুয়ায় বৃদ্ধ পিতার বিরুদ্ধে মেয়ের অপপ্রচারের অভিযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কাপিলা বাড়ি মিয়াজী বাড়ির ক্বারী আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে তার মেয়ে আসমা বেগম বিভিন্ন ধরনের কুৎসা ও অপপ্রচার চালিয়ে সম্মানহানি করছেন—এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অতিষ্ঠ হয়ে ক্বারী আব্দুল মমিন তার মেয়ে আসমা বেগম ও জামাতা গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ক্বারী আব্দুল মমিন তার মেয়ে আসমা বেগমকে পার্শ্ববর্তী বাড়ির গোলাম মোস্তফার সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর আসমা প্রায়ই বাবার বাড়িতে এসে তার ভাই ওসমানের স্ত্রী তামান্না আক্তারের সঙ্গে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট আসমা বাবার বাড়িতে প্রবেশ করে তামান্না আক্তারকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করেন। এ সময় তামান্নার স্বর্ণের চেইন ও একটি বৈদ্যুতিক চুলা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। ডাক-চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসমা ও তার স্বামী মোস্তফা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পরে আহত অবস্থায় তামান্না আক্তারকে উদ্ধার করে কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সালিশ বৈঠকে উপস্থিত আব্দুল মজিদ ও সবুজের দাবি, আসমা গ্রামবাসীর সালিশের সিদ্ধান্ত মেনে না নিয়ে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তার বাবা ক্বারী আব্দুল মমিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
ক্বারী আব্দুল মমিনের মেয়ে আমেনা অভিযোগ করে বলেন, “আমার বোন আসমা বরাবরই আমাদের সংসারে অশান্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে আমার বাবা, ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী তামান্নার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে ক্বারী আব্দুল মমিন জানান, পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে পড়ায় তিনি আইনগত প্রতিকার চেয়ে কচুয়া থানায় এজাহার দায়ের করেছেন।
এলাকাবাসী ও পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply