কচুয়ায় মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে প্রতিবাদে মানববন্ধন
নিজস্ব প্রতিনিধি:
চাদঁপুরের কচুয়া উপজেলার আশ্রাফপুর ইউনিয়নে ‘মামলা’ দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।শনিবার ১৫ আগ্ট বিকেলে পিপলকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আফছার, গাজী রুবেল, শরীফ হোসেন, নেয়ামত, হাসিনা বেগম, ফাতেমা ও নারগিস বেগমসহ অনেকে।
বক্তাগন অভিযোগ করেন, চলতি মাসের ৫ আগস্ট একটি ফেসবুক ফেক আইডিতে প্রকাশিত বিতর্কিত একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্য তরিকুল ইসলামের ছোট ভাই জহিরুল ইসলাম ও একই গ্রামের নুরুল আফছারের ছোট ভাই আবু আব্বাসের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও বাকবিতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে তরিকুল ইসলাম লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আবু আব্বাসের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বক্তাদের দাবি, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেনা সদস্য তরিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ৬ আগস্ট কচুয়া থানায় চাঁদাবাজি ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগে নুরুল আফছারসহ পিপলকরা গ্রামের ৯ পরিবারের ১১ জনকে বিবাদ করে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ১৪।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দাবি, মামলায় দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও তিন লাখ টাকা ছিনতাইয়ের যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কাল্পনিক, মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তারা অবিলম্বে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, তরিকুল ইসলাম নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং মামলা দায়েরের পরও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মামলার এক আসামির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মিথ্যা মামলায় আমার ছেলে এখনো জেলহাজতে রয়েছে। তরিকুল ইসলাম বৃষ্টির মধ্যে পা পিছলে পড়ে পায়ে আঘাত পান। এখন তিনি দাবি করছেন, আমার ছেলে নাকি তার পা ভেঙে দিয়েছে। আমি এই মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানাই।”
এলাকার একাধিক বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মামলার আসামিরা স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তারা মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে অবদান রেখে আসছেন বলে জানান তারা। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগ কতটা সত্য, তা তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে নির্ধারণের দাবি জানান এলাকাবাসী।
সেনা সদস্য তরিকুল ইসলামের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায় নাই।
মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং হয়রানি বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
Leave a Reply