কচুয়ায় এসএসসি, এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে পর্যালোচনা সভা
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়ন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আশরাফ খানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা সমন্বয়ক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার।
সভায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগন সদ্য প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফল, শিক্ষার্থীদের পাস-ফেলের হার, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা এবং আগামী দিনের শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এ সময় বক্তব্য রাখেন কচুয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান, ড. মনসুরউদ্দীন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, রহিমা নগর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান, নিশ্চিন্তপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এএসএম ফখরুদ্দিন, আশরাফপুর গণিয়া ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলী আক্কাস সরদার, আশেক আলী খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, চাঁদপুর এম এ খালেক মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোশারেফ হোসেন চৌধুরী এবং মনোহরপুর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, কচুয়া সরকারি টেকনিকাল স্কুল এন্ড কলেজের ইন্সপেক্টর সগীর আহমদ।
সভায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানগন তাঁদের বক্তব্যে জানান, এবারের পরীক্ষার ফলাফলে বেশিরভাগ অকৃতকার্য শিক্ষার্থী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), ইংরেজি ও রসায়ন বিষয়ে দুর্বলতার কারণে ফেল করেছে। শুধু চলতি ব্যাচের শিক্ষার্থী নয়, পুরোনো ব্যাচের যেসব শিক্ষার্থী পুনরায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যেও অনেকে অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে শিক্ষার্থীদের বিশেষ নজরদারিতে আনা এবং পাঠদানের পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তাঁরা আরও জানান, আগামীতে শতভাগ পাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের বাড়তি যত্ন, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ পাঠদান এবং পরীক্ষার প্রস্তুতি জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত রায় বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পরীক্ষার ফলাফলে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিধিসম্মত সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আগামীতে ভালো ফলাফল অর্জনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
উপজেলা শিক্ষা সমন্বয়ক অধ্যাপক আব্দুল ওয়াদুদ মজুমদার বলেন, উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই মানদণ্ডে পাঠদান ও পরীক্ষা পদ্ধতি অনুসরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের ওপর বাহিরের কোনো ধরনের চাপ নেই। আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি শতভাগ পাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় আগামী দিনের পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন, শিক্ষার্থীদের বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা দূরীকরণ এবং কচুয়া উপজেলার শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

ছবি:কচুয়ায় এসএসসি, এইচএসসি, আলিম ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল মূল্যায়নে পর্যালোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত রায়
Leave a Reply