কচুয়ায় প্রবাসী আবু মুসার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ, নির্যাতনের অভিযোগ, গ্রামবাসীর ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের বরুচর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে কুয়েত প্রবাসী আবু মুসার বিরুদ্ধে স্ত্রী মাহমুদা বেগমকে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া এবং একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বরুচর গ্রামে আবু মুসার বাড়ির সামনের সড়কে এ ঝাড়ু মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবু মুসার স্ত্রী মাহমুদা বেগম, সন্তান ও স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসী অংশ নেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন আবু মুসার চাচা আবুল খায়ের, হারুনুর রশিদ, কেফায়েত উল্লাহ, চাচাতো ভাই ইসহাক, তার মেয়ে মনিরা বেগম এবং স্ত্রী মাহমুদা বেগমসহ অন্যরা।
বক্তারা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে একই বাড়ির নজরুল ইসলামের মেয়ে মাকসুদা বেগমের সাথে একই বাড়ির আবু মুসার পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে মনিরা (১৮), মাকসুদা (১৪) ও মাহমুদুল হাসান (১০) নামে দুই মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। বিয়ের পর কয়েক বছর তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
তাদের অভিযোগ, পরবর্তীতে আবু মুসা একাধিক নারীর সঙ্গে কুমিল্লা ও ঢাকা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এসব নিয়ে পারিবারিক ও স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। তবে সালিশের মাধ্যমে বিষয়গুলো মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও স্থায়ীভাবে মাহমুদার সংসারে শান্তি ফিরে আসেনি বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।
মাহমুদা বেগম ও তার সন্তানদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর আবু মুসা দেশে এলেও ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক মহিলাকে বিয়ে করে তার সাথে বসবাস করেন। স্ত্রী-সন্তানদের খোঁজখবর নেন না এবং সংসারের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেন না। বরং মাহমুদা বেগমকে বিভিন্ন কৌশলে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, তার স্বামী আবু মুসা এবং তার ভাই আল-আমিন ও তার বোনদের দিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিকভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করেছেন। গত শুক্রবার আবু মুসার ভাই আল-আমিন তার ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় মাহমুদা ও তার সন্তানদের সঙ্গে আল-আমিনের বাকবিতণ্ডা হয়। তাদের ডাক-চিৎকারে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এলে আল-আমিন ঘর থেকে বের হয়ে যান বলে মাহমুদা দাবি করেন।
এ ঘটনায় মাহমুদা ও তার সন্তানদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে তারা জানান।
শিশুকে বিক্রির অভিযোগ মাহমুদার
বিক্ষোভ সমাবেশে মাহমুদা বেগম আরও একটি গুরুতর অভিযোগ করেন। তার দাবি, ২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কচুয়া টমা হাসপাতালে তার একটি কন্যাসন্তান জন্ম নেয়। সন্তান জন্মের পর তিনি অচেতন থাকা অবস্থায় তার স্বামী আবু মুসা ও তার ভাই আল-আমিন কৌশলে ওই সন্তানকে আবু মুসার ইতালি প্রবাসী ভাই ইয়াকুবের কাছে টাকার বিনিময়ে দিয়ে দেন।
মাহমুদা বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। সংসারে থাকতে হলে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ কারণে তিনি বিষয়টি নিয়ে আর প্রতিবাদ করতে সাহস পাননি বলে জানান।
“বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত সন্তানরা”
আবু মুসার মেয়ে মনিরা বেগম বলেন, বাবার পারিবারিক কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী তার বোন মাকসুদা ও ছোট ভাই মাহমুদুল হাসান দীর্ঘদিন ধরে বাবার স্নেহ-মায়া-মমতা থেকে বঞ্চিত।
মনিরা বলেন, “আমরা ভাই-বোনেরা মা-বাবার সঙ্গে মিলেমিশে সংসার করতে চাই। আমরা এই বিরোধের স্থায়ী সমাধান চাই।”
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারেন এবং তাদের বাবা যেন স্ত্রী-সন্তানদের দায়িত্ব নিয়ে সংসারে ফিরে আসেন—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা মাহমুদা বেগমের সংসার জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং মাহমুদা ও তার সন্তানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
অন্যদিকে, আবু মুসা ও তার পরিবারের সদস্যদের না পাওয়া বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply