কচুয়ায় প্রবাসী মুসার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা :
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের বরুচর গ্রামে কুয়েত প্রবাসী আবু মূসার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেওয়া, হয়রানি ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে একই বাড়ির নজরুল ইসলামের মেয়ে মাহমুদা বেগমকে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন আবু মূসা। তাদের সংসারে মনিরা (১৮), মাকসুদ (১৪) নামে দুই মেয়ে এবং মাহমুদুল হাসান (১০) নামে এক ছেলে রয়েছে।
মাহমুদা বেগমের অভিযোগ, আবু মূসা প্রবাস থেকে দেশে ফিরে ঢাকার কেরানীগঞ্জে কাউকে না জানিয়ে বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণপোষণ এবং খোঁজখবর ঠিকমতো রাখছেন না। একই সঙ্গে তার ভাই আল-আমিনসহ পরিবারের ভাই, বোনকে দিয়ে বিভিন্নভাবে তাকে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
২০২৪ সালের ১৩ অক্টোবর কচুয়া ট্রমা হাসপাতালে আমার সন্তান প্রসবের পর আমি অচেতন থাকা অবস্থায় আমার স্বামী তার ইতালি প্রবাসী ভাই ইয়াকুবের নিকট আমার সন্তান বিক্রি করে দেয়। আমার জ্ঞান ফিরে আসার পর আমি জানতে চাইলে আমাকে ভীতি প্রদর্শন করা হয় । আমি সংসার করতে চাইলে এই ঘটনা যেন কারো নিকট প্রকাশ না করি। প্রকাশ করলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
মাহমুদা বেগম আরও জানান, গত শুক্রবার মূসার ভাই আল-আমিন কৌশলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘরের মূল্যবান মালামাল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি বাধা দিয়ে চিৎকার করলে সন্তান ও বাড়ির লোকজনের সঙ্গে আল-আমিনের বাকবিতণ্ডা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘরের ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মালামাল নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।#
সরেজমিনে গেলে আবু মূসার চাচা হারুন অর রশীদ ও কেফায়েত উল্লা জানান, মূসার আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতেই পরিবারের লোকজন মাহমুদার সঙ্গে তার বিয়ে দিয়েছিলেন। বিয়ের পর দীর্ঘদিন তাদের দাম্পত্য জীবন ভালোভাবেই চলছিল। তবে বর্তমানে মূসা প্রবাসে থাকার কারণে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন না এবং বাড়িতেও তেমন আসেন না। সন্তানদের প্রতিও তিনি যথাযথ দায়িত্ব পালন করছেন না বলে তারা জানান।
এদিকে, বাড়ির লোকজনের অভিযোগ, আবু মূসার বিভিন্ন নারীর সঙ্গে অনৈতিক বা পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আবু মূসার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
তবে তার ভাই আলামিন জানান মাহমুদা আমার বৃদ্ধা মাকে দেখাশুনা না করে ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।
মাহমুদার সন্তানরা তাদের বাবাকে মায়ের সাথে সংসারে ফিরে পেতে চান। তারা বিষয়টি সমাধানে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীও মাহমুদা বেগম ও তার সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে আবু মূসাকে পরিবারের কাছে ফিরে এসে স্ত্রী-সন্তানদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply