কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোহাম্মদ উল্লাহর প্রার্থিতা ঘোষণা ও গণসংযোগ
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাঁদপুরের কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি ওই ওয়ার্ডের সাবেক জনপ্রিয় ইউপি সদস্য আবুল বাশারের জ্যেষ্ঠ সন্তান।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের তেতৈয়া ও আশপাশের এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে গণসংযোগ করেন মোহাম্মদ উল্লাহ। গণসংযোগ শেষে তেতৈয়া আ: রব মোল্লা মার্কেট প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
প্রার্থিতা ঘোষণাকালে মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, “মানুষের সেবা, ইউনিয়নের উন্নয়ন এবং মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আগ্রহী। আমি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শেষ করে বর্তমানে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছি।”
তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা আবুল বাশার দীর্ঘদিন নিঃস্বার্থভাবে এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। বাবার সেই আদর্শকে ধারণ করে যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে জনগণের পাশে থেকে সেবা করতে চান তিনি।
মোহাম্মদ উল্লাহ নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে যুব সমাজকে কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলাকে তিনি তাঁর অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, দক্ষ ও কর্মমুখী যুবসমাজ গড়ে তুলতে পারলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
স্বাস্থ্যসেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়নের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রায় ৬ শতাংশ জায়গার ওপর ১০ শয্যাবিশিষ্ট একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষকে জরুরি ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য দূরবর্তী স্থানে ছুটতে হবে না।
এছাড়া জলা তেতৈয়া বিলের দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশীয় মাছের বৈচিত্র্য রক্ষা এবং কচুয়ার ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, “ইউনিয়নের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। খাল খননের মাধ্যমে পানি চলাচলের স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করে জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়নে মেয়েদের ও নারীদের নিরাপদে চলাচলের পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। ইভটিজিং ও যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
মাদক নির্মূলের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক বিক্রি ও সেবন শতভাগ বন্ধ করতে প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জনমত সৃষ্টি করা হবে। মাদকমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলারও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাস্তাঘাট, কালভার্ট ও ব্রিজ নির্মাণে সততা, স্বচ্ছতা ও সমতার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন মোহাম্মদ উল্লাহ। তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না এবং জনগণের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ডিজিটাল সেবার বিষয়ে তিনি বলেন, ইউনিয়ন তথ্যকেন্দ্রের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সেবা প্রদান কেন্দ্রকে আরও কার্যকর করে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। এর মাধ্যমে ইউনিয়নের জনগণকে সহজ, দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর সরকারি ও নাগরিক সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সবশেষে মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, “আমি দল-মত নির্বিশেষে জনগণের প্রার্থী। আমি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি বা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হতে চাই না; আমি কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের চেয়ারম্যান হতে চাই। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে একটি উন্নত, নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও আধুনিক ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই।”
প্রার্থিতা ঘোষণার সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, কর্মী-সমর্থক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply