জুলাই অভ্যুত্থান শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; বরং বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ ও ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম ছিল : খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরী
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগ চত্বরে ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত “জুলাই পদযাত্রা” অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শাপলা চত্বর ও জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত বীর যোদ্ধারা।
সভাপতির বক্তব্যে আদনান রাফি বলেন, “ছাত্রসমাজ সবসময় দেশের ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে এবং ভবিষ্যতেও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে নেতৃত্ব দেবে। যেসব রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছে, তাদের সেই অঙ্গীকার রক্ষা করতে হবে। জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ে যত কঠিন পথই অতিক্রম করতে হোক না কেন, আমরা কুণ্ঠিত হব না, ইনশাআল্লাহ। ছাত্রসমাজকে ঐক্যবদ্ধ থেকে দেশ, জাতি ও মানুষের কল্যাণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাই।”
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে সংঘটিত সকল গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের অভিযান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন ঘটনায় পূর্ণাঙ্গ সত্য উদ্ঘাটন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে শাপলা চত্বরে নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল সরকার পরিবর্তনের জন্য ছিল না; এটি ছিল বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদের অবসান ঘটিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। তাই জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সংস্কার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত, ছাত্ররাজনীতিতে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের অবসান এবং শিক্ষার্থীদের মতপ্রকাশ, সংগঠন ও নিরাপদ শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ খেলাফত ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল রাকিবুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ মিসবাহ ও মুহাম্মাদ দিদারুল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদুল আলম সিদ্দিকী, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুকী এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা মিজানুর রহমান।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুশতাক আহমেদ, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাখাওয়াত হুসাইন হাসিব, বায়তুল মাল সম্পাদক আহমদ মুরসালিন, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এহসান সাজিদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শাহ আহমাদুল্লাহ মাহমুদ, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি আমিনুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি আতিকুল ইসলাম, নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি হাবিবুর রহমান, গাজীপুর মহানগর সভাপতি ইমরান হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বায়তুল মাল সম্পাদক আলী হাসান তন্ময়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোহাম্মদ সজীব মিয়া, নরসিংদী জেলা সভাপতি মাহমুদুল হাসান সিনানসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীলবৃন্দ।

ছবি: বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে ছাত্র সমাবেশের একাংশ
Leave a Reply