1. ashraful.shanto@gmail.com : Ashraful Talukder : Ashraful Talukder
  2. newstalukder@gmail.com : Alamgir Talukder : Alamgir Talukder
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কচুয়ার তুলপাইয়ে ৩শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হযরত দারাশাহ (রহ.) মসজিদ ও মাজার কচুয়ার চৌমুহনী ডি এস আলিম মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের সংকট কচুয়ার দক্ষিন ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক কাজী জাকির হোসেন কচুয়া বিশ্বরোডে মাদক বিরোধী সমাবেশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২১ জানুয়ারী কচুয়া ৪৭০পিস ইয়াবাসহ মহিলা মাদক ব্যবসায়ী পারুল গ্রেপ্তার চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ওরিয়েন্টেশন ও অভিভাবক সমাবেশ কচুয়ার ৩৭ টি মাদ্রাসায় একযোগে দাখিলে টেস্ট পরীক্ষা শুরু কচুয়ার চাঁদপুর এম. এ.খালেক মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীন বরণ
শিরোনাম
কচুয়ার তুলপাইয়ে ৩শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হযরত দারাশাহ (রহ.) মসজিদ ও মাজার কচুয়ার চৌমুহনী ডি এস আলিম মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনের সংকট কচুয়ার দক্ষিন ডুমুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির পরিচিতি সভা কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক কাজী জাকির হোসেন কচুয়া বিশ্বরোডে মাদক বিরোধী সমাবেশ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ২১ জানুয়ারী কচুয়া ৪৭০পিস ইয়াবাসহ মহিলা মাদক ব্যবসায়ী পারুল গ্রেপ্তার চাঁদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ওরিয়েন্টেশন ও অভিভাবক সমাবেশ কচুয়ার ৩৭ টি মাদ্রাসায় একযোগে দাখিলে টেস্ট পরীক্ষা শুরু কচুয়ার চাঁদপুর এম. এ.খালেক মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবীন বরণ

কচুয়ার তুলপাইয়ে ৩শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হযরত দারাশাহ (রহ.) মসজিদ ও মাজার

  • আপডেট : শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

কচুয়ার তুলপাইয়ে ৩শত বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাক্ষী হযরত দারাশাহ (রহ.) মসজিদ ও মাজার
নিজস্ব সংবাদদাতা :
কচুয়া উপজেলার পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের তুলপাই গ্রামের পাটওয়ারী বাড়িতে অবস্থিত হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর মাজার ও মসজিদ প্রায় তিনশত বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্মৃতির সাক্ষ্য বহন করে আসছে। কারুকার্য খঁচিত প্রাচীনতম হযরত দারাশাহ (র:) মসজিদ, মাজার, পুরোনো পারিবারিক কবরস্থান এবং চৌধুরী বাড়ির জরাজীর্ণ ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ঘিরে এলাকাটি আজও ধারণ করে আছে অতীতের নানা স্মৃতি। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ মাজার জিয়ারত করতে এখানে আসেন।
স্থানীয় সূত্রে ও হযরত দারাশাহ (র:)মসজিদের সভাপতি মো: আজিজুর রহমান পাটওয়ারী জানান , ৩শত বছর  আগে বিশিষ্ট আলেম হযরত দারাশাহ (রহ.) ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলে আগমন করেন। তিনি প্রথমে বর্তমান মসজিদ সংলগ্ন দীঘির উত্তর পারে বড় আম গাছের নীচে একটি আস্তানা গেড়ে ইসলাম প্রচারের জন্য এই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তখন এই এলাকায় জনবসতি অনেক কম ছিল। তিনি ইসলাম প্রচারের জন্য বিভিন্ন এলাকার মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে ধর্ম প্রচারে কাজ করতেন । দারাশাহ (র)মতলব দক্ষিণ উপজেলার কাশিমপুর এলাকা দিয়ে আসার সময় ওই সময়ের কাশিমপুর এলাকার জমিদার হরদয়াল নাগের সুন্দরী কন্যা রামেশ্বর দেবী তাঁর সুদর্শন চেহারায় আকৃষ্ট হয়ে বাবার আদেশ অমান্য করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে হযরত দারাশাহ (রহ:)এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। নাম পরিবর্তন করে শেখ দারা রামেশ্বরী দেবী রেখে হযরত দারাশা রহমতুল্লাহ এর সাথে তুলপাই গ্রামে বসবাস শুরু করেন। মৃত্যুর পর হযরত দারাশার বংশধর নুরুজ্জামান  চৌধুরী ১৭৮৭ সালে স্মৃতিবিজড়িত কারুকার্যখচিত দারাশাহ (রহ.) মসজিদটি নির্মাণ করেন।তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে তুলপাই গ্রামের ঐতিহ্যবাহী দারাশাহ (র:) মসজিদ ও মাজার।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর বংশধর এবং প্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর এই মসজিদ দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে। মসজিদের পাশেই রয়েছে হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর মাজার। আরো জানা যায় কাদলা ইউনিয়নের দোঘর চৌধুরী বাড়ির পূর্বপুরুষগণ এই এলাকায় বসবাস করে জমিদারি দেখাশোনা করতেন। তুলপাই বাজার ও মসজিদ সংলগ্ন এলাকার এখনও দোগর চৌধুরী বাড়ির বংশধরদের অনেক সম্পত্তি রয়েছে ।
স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, প্রায় ৩শত  বছর আগে হযরত দারাশাহ (রহ.) এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের জন্য এসেছিলেন। তাঁর স্মৃতি বহন করছে এখানকার মসজিদ ও মাজার। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মাজার জিয়ারত করতে আসেন। অনেকে আল্লাহর কাছে দোয়া করার উদ্দেশ্যে এখানে আসেন এবং মানত করেন। ইসলামের বিধান অনুযায়ী, কবর বা মাজারে সিজদা করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাই মাজার জিয়ারতকারীদের ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি বলে মসজিদের খতিব জানান।
 হযরত দারাশাহ (র:) মসজিদ ও মাজারসংলগ্ন এলাকায় রয়েছে তুলপাই পাটোয়ারী বাড়ির প্রাচীন পারিবারিক কবরস্থান। সেখানে পাটওয়ারী বাড়ির  পূর্বপুরুষদের সমাহিত করা হয়েছে। কবরস্থানটি অতীত প্রজন্মের স্মৃতি ও পাটওয়ারী বাড়ির পারিবারিক ইতিহাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
হযরত দারাশাহ ( র:)মসজিদ, মাজার ও পাটওয়ারী বাড়ির  কবরস্থান, চৌধুরী বাড়ি এই স্থাপনাকে ঘিরে তুলপাই পাটোয়ারী বাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এক পরিবেশ। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা স্থানীয় মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও ঐতিহাসিক স্মৃতির অংশ হয়ে রয়েছে।
তুলপাই পাটোয়ারী বাড়ি এলাকায় রয়েছে একটি মাদ্রাসা ও একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এলাকায় বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
স্থানীয়ভাবে প্রতিবছর মসজিদ ও মাজারকেন্দ্রিক বার্ষিক মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়া প্রতি মাসেও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে।
তুলপাই পাটোয়ারী বাড়ির ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক চৌধুরী বাড়ির একটি প্রাচীন পরিত্যক্ত ভবন। স্থানীয়দের ধারণা, প্রায় ৩০০ বছর আগে হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর পূর্বপুরুষ আশরাফ আলী চৌধুরী তুলপাই চৌধুরী বাড়িতে স্থাপনা নির্মাণ করে জমিদারি দেখাশোনা করতেন। জমিদারি পরিচালনা ও ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর বংশধরেরা তুলপাই এলাকায় বসবাস করতেন বলেও স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে।
একসময়ের স্মৃতিবিজড়িত  চৌধুরী বাড়ির ভবনটি বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ছে। দেয়াল ও অন্যান্য অংশে জন্মেছে গাছপালা। দীর্ঘদিনের অযত্ন ও অবহেলায় ভবনটি ক্রমেই তার অস্তিত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, ভবনটি শুধু একটি পুরোনো স্থাপনা নয়; এটি এলাকার অতীত ইতিহাস, সামাজিক অবস্থান ও ঐতিহ্যের স্মারক। 
তুলপাই গ্রামের হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর মসজিদ ও মাজার, পাটোয়ারী বাড়ির পুরোনো পারিবারিক কবরস্থান, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা এবং চৌধুরী বাড়ির প্রাচীন স্থাপনা—সব মিলিয়ে এলাকাটি কচুয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও ঐতিহ্য ধারণ করে থাকা এসব স্থাপনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে চৌধুরী বাড়ির জরাজীর্ণ ভবনটির অবস্থা পর্যালোচনা করে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব নিরূপণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রবীণদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ, পুরোনো দলিলপত্র অনুসন্ধান এবং স্থাপনাগুলোর ইতিহাস লিখিতভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
কালের বিবর্তনে গ্রামবাংলার বহু প্রাচীন স্থাপনা হারিয়ে যাচ্ছে। যথাযথ উদ্যোগের অভাবে তুলপাইয়ের ঐতিহাসিক ভবনটিও একসময় বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই হযরত দারাশাহ (রহ.)-এর মাজার ও মসজিদসহ সংশ্লিষ্ট ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ করা গেলে তা কেবল স্থানীয় ঐতিহ্য রক্ষায় নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে কচুয়ার সমৃদ্ধ ইতিহাস তুলে ধরতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ছবি : হযরত দারাশাহ (র:) মাজার ও মসজিদ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় মাল্টিকেয়ার