কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক কাজী জাকির হোসেন, অগ্রাধিকার দিতে চান শিক্ষা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে
নিজস্ব সংবাদদাতা :
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কচুয়া উপজেলার কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী কাজী জাকির হোসেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের শিক্ষকতা, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করতে চান। তাঁর পরিকল্পনায় রয়েছে শিক্ষার প্রসার, ঝরে পড়া রোধ, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং এলাকায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা।
কাজী জাকির হোসেন কচুয়া উপজেলার উজানী কাজী বাড়ির কৃতি সন্তান। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর আইনগিরি মাদ্রাসায় সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দীর্ঘ ২৭ বছর শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের শিক্ষা সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু প্রসঙ্গে কাজী জাকির হোসেন জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে ১৯৯১ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সাল থেকে সাবেক মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে একাধিকবার হামলা ও মামলার শিকার হতে হয়েছে বলেও জানান তিনি। ২০১৬ সালে তাঁকে এক মাস কারাবরণ করতে হয়।
তিনি দীর্ঘদিন কচুয়া উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখছেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক উজানী মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
জনগণের প্রত্যাশায় চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান:চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশার বিষয়ে কাজী জাকির হোসেন বলেন, “এলাকাবাসীর আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশার কারণেই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে মানুষের সেবা করার সুযোগ আরও বাড়বে। আমি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে থেকে তাঁদের সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছেন। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং জনগণের অংশগ্রহণে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
শিক্ষার প্রসার ও ঝরে পড়া রোধে বিশেষ পরিকল্পনা :শিক্ষকতার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে শিক্ষার মানোন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান কাজী জাকির হোসেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, এলাকার প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়মুখী করা, ঝরে পড়া রোধ করা এবং শতভাগ শিশুর বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “আমি নির্বাচিত হলে এলাকার ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়মুখী করা এবং ঝরে পড়া রোধে কাজ করব। প্রতিটি ওয়ার্ডে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, মসজিদের খতিব ও সুধীজনদের সমন্বয়ে শিক্ষা কমিটির কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা এবং ইউনিয়নকে শতভাগ শিক্ষিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চাই।”
তাঁর মতে, শিক্ষার গুনগত মানোন্নয়নে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে চান তিনি।
খেলাধুলার মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার:যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করাও তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান বিষয়। এ লক্ষ্যে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যুবকদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ সৃষ্টি এবং সুস্থ বিনোদনের পরিবেশ গড়ে তুলতে চান তিনি।
কাজী জাকির হোসেন বলেন, যুবসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে খেলাধুলা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। নির্বাচিত হলে প্রতিটি এলাকায় খেলাধুলার ব্যবস্থা জোরদার করে যুবকদের মাদক থেকে দূরে রাখা এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করবেন।
গ্রাম আদালত সক্রিয় করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা:এলাকায় ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কাজী জাকির হোসেন বলেন, সততা ও ন্যায়পরায়ণতাকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি জনসেবায় নিয়োজিত থাকতে চান। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতকে আরও সক্রিয় করার উদ্যোগ নেবেন, যাতে সাধারণ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে সহজে ন্যায়বিচার পেতে পারেন।
তিনি মনে করেন, ইউনিয়ন পরিষদকে জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হলে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও সমস্যার গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করাও তাঁর পরিকল্পনার অংশ।
দলীয় মনোনয়ন ও জনগণের সমর্থন প্রত্যাশা:
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে কাজী জাকির হোসেন বলেন, তিনি জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। দলের দুঃসময়সহ বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দল তাঁকে চেয়ারম্যান পদে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করবে বলে তিনি আশাবাদী।
তিনি আরও বলেন, “আমি সব সময় এলাকায় থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সেবা প্রদান, শিক্ষার প্রসার, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করব। একটি জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করাই আমার লক্ষ্য। এ জন্য আমি কচুয়া উত্তর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে কচুয়া উত্তর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী কাজী জাকির হোসেনের শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, মাদক প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা এখন তাঁর রাজনৈতিক প্রত্যাশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে দলীয় সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে তিনি শতভাগ আশাবাদী।
Leave a Reply